এইডস আক্রান্ত কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তার বাবা। বিদেশ ফেরত জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়ে সংক্রামিত হওয়ায় ভেতরে ভেতরে পুড়ছেন তিনি। সামাজিকতার ভয়ে এক সন্তানের জননীকে স্বামীর সাথে সংসার করতেও তাই বাধা দিতে পারছেন না পিতা।
‘বিদেশি জামাই দেখে, টাকা আছে বলে মেয়ের বিয়ে দেয়া সঠিক না। একটু যাচাই-বাছাই করে বিয়ে দেয়া উচিৎ’ বলছিলেন ওই বাবা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বলছে, শিরায় মাদক গ্রহণকারী, নারী যৌন কর্মী, সমকামী ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইডস সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। তবে এদের মধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের অবস্থান শীর্ষে। এর পরেই রয়েছে দেশে ফেরা প্রবাসী জনশক্তি।
এইডস আক্রান্ত একজন রোগী বলেন, ‘আমার তো এই রোগ ছিল না। আমি মেলামেশা করলাম, তারপর থেকেই এই রোগ হয়ে গেছে।’
আরেকজন বলেন, ‘রক্ত নিয়েছিলাম। ডাক্তাররা সেটা টেস্ট না করেই আমার শরীরে দিয়েছে। সেখান থেকেই এইচআইভিটা ছড়িয়ে গেছে।’
জাতিসংঘের গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ১৩হাজার ২শ। বিগত ৮৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৮৬ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে তারা ধীরে ধীরে সুস্থ জনগোষ্ঠীকে আক্রান্ত করার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।
এইডস রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ আহসান তৌহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সব চিকিৎসককেই এই ব্যাপারে ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। যাতে তারা সম্ভাব্য রোগীদের শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে পারে।’
ইতিমধ্যেই দেশের ২৩টি জেলাকে এইডস ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব জেলাকে প্রাধান্য দিয়ে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চলতি বছর নতুন করে ৮৬৫জন শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর শিকার হয়েছে ৯২৪ জন। তবে চিকিৎসরা বলছেন, দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে এদের অধিকাংশকেই সুস্থ জীবনে ফেরানো সম্ভব।
