শসার যত গুনাগুন । রূপচর্চা ও মেদ নিয়ন্ত্রণসহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজির
শসা অত্যন্ত পরিচিত একটি।অন্যভাবে বললে এটা শুধুই পরিচিত শব্দ নয়,অত্যন্ত উপকারী একটা খাবার বটে।সারা বিশ্বে আবাদ হওয়ার দিক থেকে ৪ নম্বরে রয়েছে যে সবজিটি,সেটি হলো শসা।
শসার রয়েছে হরেক গুণ। রূপচর্চা ও মেদ নিয়ন্ত্রণসহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজির।শসার গুরুত্ব বহু।শসার প্রয়োজনীয়তা জানার চলুন আগে জেনে আসি শসার পরিচিতি।
শসা ও এর পুষ্টি পরিমানঃ
শসা (Cucumis sativus) গোর্ড পরিবার কিউকারবিটাসের অন্তর্গত একটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ। শসা এক প্রকারের ফল।এটি কাচা খাওয়া হয় বা সালাদ তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। এর উৎপত্তি ভারতবর্ষে হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই জন্মে। এটি সাধারণত গরমের সময় বেশি পাওয়া যায়।এই ফলে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে এবং জলের পরিমাণ বেশি থাকে । খোসা সহ একটি কাচা শশা'র প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালরীর পরিমাণ ২০ কিলো ক্যালরী। বাংলাদেশে শশা প্রধাণত সালাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শসার গুরত্বঃ
১।মস্তিষ্ক রক্ষা
শসাতে ফিসেটিন নামক এক জাতীয় ফ্ল্যাভানল বিদ্যমান যা মস্তিষ্কের জন্য খুবই ভালো।মানুষের বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে অনেক সময় মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়।নিয়মিত শসা খেলে মনে রাখার ক্ষমতা এবং স্নায়ু কোষ শক্তিশালী হয়।
২।ক্যান্সার প্রবনতা কমানো
শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল,ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল এ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান আছে। জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এই তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।এছাড়া ও শসায় বিদ্যমান বিভিন্ন ফাইটোনিট্রিয়েন্ট ও ক্যান্সার বিরুদ্ধে কাজ করে।
৩।হজম ও ওজনহ্রাসে সহায়ক
শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ফলে যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান,তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করবে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা স্যুপ ও সালাদে বেশি বেশি শসা ব্যবহার করবেন। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয়।
৪।ত্বকের যত্নে
দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করে। গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধা মিনিট রাখুন।শসার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস।
শসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে। এ ছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৫।চোখের যত্নে
সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন।এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়,তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে।চোখের প্রদাহপ্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া ঠেকাতেও এটি কাজ করে।
৬।রোগ নিরাময়ে
শসায় রয়েছে স্টেরল নামের এক ধরনের উপাদান,যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন,শসার খোসায়ও স্টেরল থাকে।ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণে শসা খুব উপকারী।এরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকার কারণে শসা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করে থাকে।শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস,অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী।কিডনি,ইউরিনারি,ব্লাডার,লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যায় শসা বেশ সাহায্য করে থাকে।
প্রাত্যহিক জীবনে নানা খাবারে শসা ব্যবহার করুন ফলে আপনার শরীর মুক্ত থাকবে নানা ধরনের রোগ থেকে।ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।ধন্যবাদ।
