ভোটের চার দিন আগে সিইসি কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগের দাবি তুললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাংবাদিকদের বলেন, “এই নির্লজ্জ, অযোগ্য, অকার্যকর নির্বাচন কমিশনকে জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আজকে তারা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চাই। এটা অবিলম্বে চাই।”অবিলম্বে বলতে কী বোঝাচ্ছেন- প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, “এই মুহূর্তে চাই।”
নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে তার সমালোচনা করে আসছে বিএনপি।
বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ঠিক এক মাস আগে জোটের শীর্ষনেতা কামাল হোসেন সিইসি পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন। তবে একই তিনি বলেছিলেন, নিরপেক্ষতা প্রমাণে নূরুল হুদাকে সময় দিতেও তাদের আপত্তি নেই।
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর বিএনপির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযোগ করা হচ্ছে ইসিতে। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হলেও ইসি কিছু করছে না।
এর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন ভবনে গেলে সেখানে বৈঠকে সিইসির সঙ্গে কামালের উচ্চ বাচ্য হয়। এক পর্যায়ে আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই বেরিয়ে আসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
ফখরুল তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিইসি কথাগুলো কোনো গুরুত্ব দেননি; কোনো আশ্বাসও পাইনি।”
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, সিইসির সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করেন কামাল হোসেন। একে ‘মস্তানির’ সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
এরপর রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্টের এক বৈঠকের পর রক্তাক্ত গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন ফখরুল।
সিইসির সঙ্গে দুপুরের বৈঠক নিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে আমাদেরকে বলতে হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের যুক্তিগ্রাহ্য ও প্রমাণসিদ্ধ বিষয়গুলো অগ্রাহ্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন দলের নেতার ভাষায় অভিযোগগুলো অস্বীকার করে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিলে ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ শুধু ক্ষুব্ধই নন, বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।
“নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান যে এমন অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিতে পারে, তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্টতই প্রমাণ হয়েছে যে এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে ক্ষমতাসীন সরকারের অতি বাধ্যগত একজন কর্মচারীর চেয়ে আর বেশি কিছু নন। তার নিকট থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন তো দূরের কথা, নিরপেক্ষ আচরণ পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।”
ফখরুল বলেন, “এখানে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না, মনে হচ্ছে হোলি খেলা হচ্ছে। প্রত্যেকটি জায়গায় এভাবে আক্রমণ করে আমাদের নেতা-কর্মী-প্রার্থী সকলকে রক্তাক্ত করা হচ্ছে। মহিলা পর্যন্ত বাদ পড়ছে না।”
