বর্ষ পরিক্রমায় প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর দরজায় আত্মসংযম,আত্মোপলব্ধি,তাক্ওয়া এবং মহান কুরবানীর শিক্ষা নিয়ে উপস্থিত হয় পবিত্র রমযান মাস।পবিত্র মাহে রমযান আধ্যাত্মিক ভূবনে বসন্তের সমারোহে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্ম-শুদ্ধির মাস,পরম করুণাময় আল্লাহকে একান্ত করে পাওয়ার মাস।
রমজান মাসে রোযা রাখায় স্বাস্থ্যের উপকারিতা
এই পবিত্র মাসের পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে,মহান আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন-
“মানুষ যত কাজ করে তা তার নিজের জন্য আর রোযা রাখা হয় কেবল আমার জন্য।সুতরাং আমি নিজেই এর পুরস্কার বা আমি নিজে এর পুরস্কার দিব।”
ইসলামের ৫ টি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম।পবিত্র রমজান মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা সামর্থ্যবান সকল মুসলমানের উপর রোজা ফরজ করে দিয়েছেন।অনেকের ধারনা রোজা রাখলে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়।রোযা রাখলে দৈহিকভাবে এবং মানসিকভাবে একজন মানুষ বহু উপকার পেতে পারেন।চলুন জেনে নিই সেগুলো-
মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ
একজন প্রকৃত রোযাদার কখনই খারাপ চিন্তাভাবনা করতে পারেন না।ফলে পজিটিভ চিন্তাধারার বিকাশ ঘটে।আমেরিকার বিজ্ঞানীদের এক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রোযা রাখার ফলে একজন মানুষের মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।এর মূল কারন হল মস্তিষ্কে নিউরোট্রপিক ফ্যাক্টর এর বৃদ্ধি।যার ফলে অনেক বেশি নিউরন তৈরি হয় বা ব্রেইন সেল তৈরি হয় যা আপনার মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিঃসন্দেহে অসাধারন ভূমিকা রাখে।
খারাপ অভ্যাস নিয়ন্ত্রনেঃ
আমাদের সাধারন যে খারাপ অভ্যাস গুলো আছে যেমনঃধূমপান,মদ্যপান,নেশা করা,অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া ইত্যাদি ছাড়ার জন্য রোযার ভূমিকা ব্যাপক।একজন প্রকৃত রোযাদার রোযা রাখা অবস্থায় সর্বদা এগুলো এড়িয়ে চলেন।ফলে এই অভ্যাসগুলো ছেড়ে দেয়া সহজ হয়ে যায় যা আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ধূমপানের কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়।আমরা জানি ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর।এ কথা বর্তমান যুগে সবাই জানে।বিজ্ঞানের আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই ইসলাম ধূমপান নিষিদ্ধ করেছিল। ধূমপানের কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে।ধূমপান বর্জনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে রমজান মাস।এমনকি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা ধূমপান ছাড়ার জন্য এই মাসটিকে আদর্শ সময় বলে গন্য করেছে।
কোলেস্টেরল কমানোঃ
অনেকে অতিরিক্ত স্থূলতার কারনে ডায়েট করেন সাধারন সময়।স্থূলতার অন্যতম একটি কারন শরীরে কোলেস্টেরল এর পরিমান বৃদ্ধি।রোযা রাখার ফলে খাওয়া নিয়ন্ত্রনে থাকায় শরীরে ওই অনুপাতে কোলেস্টেরল উৎপন্ন হতে পারে না।এ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একদল চিকিৎসক গবেষনাও করেছেন এবং একই মত দিয়েছেন।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনের ফলে হৃৎপিন্ড সুস্থ থাকে।বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ এবং স্ট্রোক এর সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।স্থূলতার পরিমানও কমে যায়।
শরীরে বিষাক্ততা দূরীকরনেঃ
স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে সারা বছর অতিরিক্ত খাবার,অখাদ্য,ভেজাল খাবার ইত্যাদি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে জৈব বিষ জমা হয়।এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।যদি আমরা পুরো এক মাস সঠিক ভাবে রোজা পালন করি তাহলে এসব বিষ শরীর থেকে দূর হয়ে যাবে।আমাদের শরীর হবে শংকামুক্ত।
পরিপাক ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ
সারাদিন না খাওয়ার ফলে আপনার পরিপাকের সাথে জড়িত অঙ্গগুলো আরো কার্যক্ষম হয়ে পড়ে।ফলে অল্প খাবার থেকে অতিরিক্ত পরিমান নিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে।এডিনোপেক্টিন নামক হরমোন এর ফলে এই কাজটি হয়ে থাকে।এর ফলে আপনার শারিরীক ক্ষমতা ঠিক থাকে।
আমরা সঠিকভাবে রোযা পালন করলে মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন হবে এবং সাথে সাথে আমাদের শরীর ও সুস্থতা পাবে।আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য অবশ্যই খারাপ কিছু রাখেন নি,মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।আসুন আমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার বিধান মোতাবেক জীবন পরিচালনা করি,সুস্থ থাকি,আল্লাহর সানিধ্য লাভ করি।
