Breaking

ধূমপান ছাড়ার ১০ টি অসাধারন উপায়.ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার,হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের ঝুকি বৃদ্ধি,মস্তিস্কে রক্ত চলাচলে বাধা,যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে ধূমপানের।

smoking,smoke
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর

অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কি‘নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়া হয় না। বিশেষজ্ঞগণ ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষারকিছু উপায় বলে দিয়েছেন। এসব অনুসরণ করলে অবশ্যই ধূমপান ছাড়া সম্ভব।
চলুনএকনজরেদেখেনিইউপায়গুলোঃ

১।দৃঢ় প্রতিজ্ঞাঃ
ধূমপানছাড়তে না পারার অন্যতম প্রধান কারন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ না হওয়া।আপনি ধূমপান ছাড়তে চাইলে এখনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এবং এখনই নিজের পকেটে থাকা সিগারেটের প্যাকেট ছুড়ে ফেলে দিন।তবে হঠাত করেই তা সম্ভব হয় না।তাই ধীরে ধীরে আপনার প্রতিজ্ঞা পূরনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

২।ধৈর্যঃ
সিগারেট ছাড়তে হলে অবশ্যই আপনাকে আরো অনেক বেশী ধৈর্যশীল হতে হবে।নিজেকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে হবে।সিগারেটের নিকোটিন আপনাকে সবসময় প্রেরনা দেয় আরো বেশী সিগারেট খাও্য়ার।আর তা থে মুক্তির অন্যতম সেরা উপায় ধৈর্য বাড়ানো।প্রথমে ১ দিন,পরে ২ দিন,তারপর ৩ দিন এভাবে ধীরে ধীরে সিগারেট না খাও্যার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৩।খারাপ সঙ্গ ত্যাগঃ
এটা গুরত্বপূর্ন একটি কারন বটে।আপনার কাছের বন্ধুটি ধূমপান করলে আপনি না চাইলে সিগারেট নিয়ে নিবেন।খুব কম মানুষ এইরকম অবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে।তাই যথাসম্ভব যতদিন না আপনার ধূমপান ছাড়ার অভ্যাস হচ্ছে ততদিন তাদের থেকে দূরে থাকুন।
৪।টাকা অন্য কাজে লাগানোঃ
আমরা সবাই জানি ধূমপানের পেছনে আমাদের মাসে অনেক টাকা চলে যায় যা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়।প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব কিছু শখ থাকে।আপনি সে টাকা জমিয়ে শখের জিনিস কিনুন।যেমন অনেকের বই পড়তে ভালো লাগে।তাহলে টাকা জমিয়ে নতুন নতুন কিছু বই কিনে পড়ুন।এতে সময় ও কাটবে এবং ধূমপানের চিন্তা মাথা থেকে সরে যাবে।অথবা টাকা জমিয়ে নিয়ে নিতে পারেন বাজারে আসা নতুন নতুন সব টেকনোলজিক্যাল বস্তু।যেমনঃস্মার্টফোন,ল্যাপটপ,গেমিং আইটেম ইত্যাদি।

৫।লাইফস্টাইল পরিবর্তনঃ
নিরুপায় হলে সর্বশেষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে কাউন্সেলিং-এর সহায়তা নিতে পারেন।ধূমপান ছাড়তে হলে মূলত এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে কাজে দিবে।আপনার সমগ্র জীবনযাপন টা বদলানোর চেষ্টা করুন।যে সময়ে আগে ধূমপান করতেন এখন অন্য কিছু করুন য্বমনঃবই পড়া,টিভি দেখা,গেম খেলা,শারীরিক কসরত করা

৬।প্রিয় মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করাঃ
যখন ধূমপান করতে ইচ্ছে করবে তখন ই চট করে ফোন দিন আপনার কোন প্রিয় মানুষকে যার সাথে অনেকদিন কথা হয় না।ভালো লাগবে এবং ধূমপানের ইচ্ছে চলে যাবেঅথবা আড্ডা দিতে পারেন মা,বাবা,ভাই,বোনের সাথে।যথাসম্ভব পরিবারকে সময় দিন।

৭।চুইংগাম খাওয়াঃ
যখন ধূমপান করতে ইচ্ছে হবে খেয়ে নিন চুইংগাম।অনেকটাই উপকারী।অবাক হবেন না।বিশেষজ্ঞের দেয়া টিপ্স এটি।এছাড়াও স্বল্প মাত্রার নিকোটিনিক ট্যাবলেট ও পাওয়া যায় যা অনেক কার্যকর।

৮।শারীরিক ব্যায়ামঃ
মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হালকা ম্যাসাজ নিন।নিয়মিত ব্যায়াম করুন।প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক-সবজি ও রঙিন ফলমুল খান।এছাড়াও ধূমপানের ফলে ফুসফুসের,হৃৎপিন্ডের মারাত্নক ক্ষতিসাধন হয়।শারীরিক ব্যায়ামের ফলে তা কিছুটা কমানো সম্ভব।

৯।জায়গা পরিবর্তনঃ
যেসব স্থানে থাকলে ধূমপানের ইচ্ছে হয় সেসব জায়গা পরিহার করুন।

১০।চিকিৎসকের সরনাপন্ন হওয়াঃ
নিরুপায় হলে সর্বশেষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে কাউন্সেলিং-এর সহায়তা নিতে পারেন।
এই টিপস গুলো সঠিকভাবে মেনে চললে আপনিও পেতে পারেন সুন্দর এবং সুস্থ একটি জীবন।ভালো থাকুন।সুস্থ থাকুন।